ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ইরান-সমর্থিত হুতিরা সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের বাহিনীর বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযান শুরু করেছে। এতে করে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূলে সরকারি বাহিনী ও হুতি গোষ্ঠীর মধ্যে গত এক মাসের লড়াইয়ে দুই পক্ষের ১ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।
ইয়েমেন সরকারের 'ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেস'র এক বিবৃতির বরাত দিয়ে আল-জুমহুরিয়া টিভি জানিয়েছে, গত ৯ আগস্ট থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুদ্ধে তাদের ৫০০ জনেরও বেশি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এছাড়া ১,৫০০ জন আহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, একই সময়ে ১০০০ জনেরও বেশি হুতি যোদ্ধা নিহত এবং হাজার হাজার হুতি যোদ্ধা আহত হয়েছেন। তবে হতাহতের এই সংখ্যা সঠিকভাবে যাচাই করতে পারেনি আল-জাজিরা।
এদিকে, ইয়েমেনের এই সংঘাতকে শুধু হুতি ও সরকারের মধ্যকার দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখলে এর জটিলতা পুরোপুরি বোঝা যায় না। একদিকে হুতিরা দেশের বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে এবং ইরানের সমর্থন পাচ্ছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সৌদি আরব সমর্থন করছে।
এর পাশাপাশি পিএলসি, ইসলাহ এবং ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেসের মতো বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তির নিজস্ব স্বার্থ রয়েছে। দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের রাজনৈতিক বিভাজনও সংঘাতকে আরও জটিল করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লোহিত সাগর ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রশ্ন। গাজা যুদ্ধের পর হুতিদের ইসরায়েল ও আন্তর্জাতিক জাহাজে হামলা ইয়েমেনের সংঘাতকে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর ভূরাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করেছে।
ফলে ইয়েমেনে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য শুধু হুতিদের সঙ্গে সরকারের সমঝোতাই যথেষ্ট নয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামরিক গোষ্ঠীর মধ্যে সমঝোতা, সৌদি আরব ও ইরানের মতো আঞ্চলিক শক্তির ভূমিকা এবং ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো- সবকিছুর সমন্বিত সমাধান প্রয়োজন। এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধ এখনও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম কঠিন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকট হিসেবে রয়ে গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে যে যুদ্ধ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।