ফ্রান্স জুড়ে ফের তীব্র হয়ে উঠেছে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ। জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সরকারের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো রাস্তায় নেমেছেন হাজার হাজার আন্দোলনকারী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করেছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ। আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতা দেখা দিলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ।
হ্যালোইন উৎসবকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সজুড়ে প্রায় দেড়শটি বিক্ষোভ সমাবেশের খবর পাওয়া গেছে। রাজধানী প্যারিসের ঐতিহাসিক প্লাস দে লা রিপাবলিক থেকে প্লাস দে লা বাস্তিল পর্যন্ত প্রস্তাবিত একটি মিছিল দেশের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক আদালত নিষিদ্ধ করে এবং তা শহরের প্রধান বাণিজ্যিক এলাকাগুলো থেকে দূরে পূর্ব প্রান্তের বুলেভার্ডগুলোতে স্থানান্তরিত করার নির্দেশ দেয়।
এদিকে বিক্ষোভ ঘিরে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতা, ভাঙচুর ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহারের আশঙ্কায় ফ্রান্সে অবস্থানরত আমেরিকান নাগরিকদের জনসমাগম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস। ইতোমধ্যেই এই আন্দোলনে লুটপাট ও সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যার কারণে খুচরা ব্যবসা খাতে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির চেম্বার অব কমার্স। প্যারিসের বিখ্যাত শপিং অ্যাভিনিউগুলোর বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের শোরুমগুলোকে রক্ষা করতে কাঠের বোর্ড দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। চলমান এই ধ্বংসযজ্ঞ রোধে সরকার নতুন আইন আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার অধীনে দাঙ্গায় সম্পত্তির ক্ষতি করলে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানা গুণতে হতে পারে।
মূলত শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক সংকট ও পড়াশোনার নিম্নমানের প্রতিবাদে হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের হাত ধরে এই আন্দোলনের সূচনা হয়। আন্দোলনকারীরা অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগ, শ্রেণীকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমানো এবং শিক্ষা খাতে সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছে। পরবর্তীতে তা জীবনযাত্রার অতিরিক্ত ব্যয় ও সার্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার বিরুদ্ধে একটি বৃহত্তর গণবিক্ষোভে রূপ নেয়। যদিও জ্বালানি খরচ কমানো ও শিক্ষা সংস্কারের সরকারি প্রতিশ্রুতি আন্দোলনকারীদের শান্ত করতে পারেনি। এই অসন্তোষ এখন শুধু ফ্রান্সেই সীমাবদ্ধ নেই; কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা, আবাসন সংকট ও শিক্ষা খাতের দুর্বলতার প্রতিবাদে সমগ্র ইউরোপ জুড়েই তরুণ সমাজ সোচ্চার হয়ে উঠছে।
মন্তব্য (০)
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।