যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তির আশায় কমল তেলের দাম
7 hours ago
4.1 K
Views
0
like
share
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি চুক্তির আশায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে এশিয়ার শেয়ারবাজারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে একটি চুক্তি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে এবং শিগগিরই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে লেনদেন শুরু হওয়ার পর বিশ্ববাজারের তেলের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমে যায়। জ্বালানির দাম কমে আসায় স্বস্তি ফিরেছে এশিয়ার ব্যবসা-বাণিজ্যে। এর প্রভাবে জাপানের প্রধান শেয়ার সূচক ‘নিক্কেই ২২৫’ প্রায় আড়াই শতাংশ বেড়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর ব্যাপক নির্ভরশীল হওয়ায় চলমান সংঘাতের কারণে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া সবচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে ছিল। সম্ভাব্য এই চুক্তির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নৌপথ পুনরায় সচল করা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ কার্যত অচল হয়ে পড়ে। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই পথ দিয়েই পরিবহন করা হয়। ফলে মার্চ থেকে বিশ্ববাজারে তেলের দামে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত করতে তিনি সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। এছাড়া ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গেও তার ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, যেকোনো চুক্তিতে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখার কঠোর শর্ত থাকবে।
তবে আলোচনার অগ্রগতি হলেও ট্রাম্প তার আলোচক দলকে ধীরস্থিরভাবে এগোনোর পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, তাড়াহুড়ো না করে সময় নিয়ে একটি কার্যকর ও টেকসই চুক্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে কিছু বিষয়ে দূরত্ব কমলেও এখনো বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল ইস্যুতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
জ্বালানি ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শান্তি চুক্তির খবরে আপাতত তেলের বাজারে স্বস্তি ফিরলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে ২০২৭ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। কারণ, যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত তেল স্থাপনা পুনর্গঠন এবং বিশ্ববাজারে কমে যাওয়া জ্বালানি মজুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হবে।