একটি চরিত্রকে পর্দায় বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে অভিনেতাদের নানা ধরনের শারীরিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। কখনও ওজন কমাতে হয়, আবার কখনও বাড়াতে হয়। চরিত্রের প্রয়োজনে খাদ্যাভ্যাসেও আনতে হয় বড় পরিবর্তন। এমনই কঠিন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন দক্ষিণী অভিনেতা বিজয় দেবেরাকোন্ডা।
‘লিগার’ ছবিতে অভিনয়ের সময় নিজের কঠোর শারীরিক প্রস্তুতির কথা তুলে ধরেছেন বিজয়। তিনি জানান, ছবিতে এমএমএ যোদ্ধার চরিত্রে অভিনয়ের জন্য নিজেকে পেশিবহুল ও ছিপছিপে করে তুলতে কঠিন প্রশিক্ষণের পাশাপাশি পানি খাওয়ার পরিমাণও কমিয়ে দিয়েছিলেন।
বিজয়ের সাধারণ অভ্যাস দিনে প্রায় চার থেকে ছয় লিটার পানি পান করা। কিন্তু ‘লিগার’-এর চরিত্রের জন্য শুটিংয়ের আগে সেই পরিমাণ ধাপে ধাপে কমিয়ে আনতে হয়েছিল। একপর্যায়ে দিনে মাত্র ১০০ মিলিলিটার পানি পান করতেন তিনি। এমনকি শুটিংয়ের আগে টানা প্রায় ১০ ঘণ্টা পানি না খেয়েও থাকতে হতো বলে জানান অভিনেতা।
তীব্র তৃষ্ণার সময় কী করতেন বিজয়? অভিনেতার কথায়, পানি পান করতে না পারায় শেষ পর্যন্ত বরফের টুকরো মুখে রেখে তৃষ্ণা মেটানোর চেষ্টা করতেন তিনি। তবে এই প্রক্রিয়া মোটেই সহজ ছিল না এবং স্বাস্থ্যকরও নয় বলে স্বীকার করেছেন বিজয়।
শরীরে পানির পরিমাণ কমে যাওয়ায় শুটিংয়ের সময় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠত। চার ঘণ্টার শুটিং শেষ হওয়ার অপেক্ষায় থাকতেন তিনি। কখন শুটিং শেষ হবে এবং কখন জল পান করতে পারবেন, সেটিই হয়ে উঠত তার প্রধান চিন্তা।
এ জন্য শুটিং শেষ হওয়ার আগেই নিজের টিমকে ডাবের পানি প্রস্তুত রাখতে বলতেন বিজয়। শুটিং শেষ হওয়ার পর একসঙ্গে প্রায় চার লিটার ডাবের পানি পান করতেন বলেও জানান তিনি।
অভিনেতা আরও জানান, শুটিং চলাকালীন আড়াই ঘণ্টা পার হলেই কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য টিমকে তাগাদা দিতে শুরু করতেন। কারণ তখন তার একমাত্র অপেক্ষা ছিল শুটিং শেষ করে পানি পান করা।
২০২২ সালের ‘লিগার’ ছবিতে এমএমএ যোদ্ধার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন বিজয় দেবেরাকোন্ডা। ছবিটির মাধ্যমে হিন্দি সিনেমাতেও অভিষেক হয় তার। চরিত্রের জন্য তার এই কঠোর প্রস্তুতি অভিনেতাদের পর্দায় একটি চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে কতটা শারীরিক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়, তারই উদাহরণ হয়ে উঠেছে।