গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা নদীর পানি স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে পদ্মার পানি বিপৎসীমার ২ সে. মি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপরদিকে মহানন্দা ও পূণর্ভবা নদীর পানিও স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। মহানন্দা নদীর পানি প্রায় এক মিটার ও পূণর্ভবা নদীর পানি ২ মিটার পিবৎসীমার নিজ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
জানা গেছে, ফারাক্কার সবকটি জলকপাট খুলে দেয়ায় উজানের ঢলের পানি আর চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে ৪হাজার পরিবার পানিবন্ধী হয়ে রয়েছে প্রায় এক সপ্তাহ ধরেপানির কারণে ২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। তবে পানি কমার সাথে সাথে নদী ভাঙন আতংকে রয়েছেন নদীপাড়ের মানুষজন।
স্থানীয়রা জানান, ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ ও সদর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কোথাও কোথাও পানি ঢুকে পড়েছে বসতবাড়িতে। এছাড়া পানিতে তলিয়ে গেছে প্রায় সাড়ে ৩শ হেক্টর আমন ধানসহ সবজি খেত। এদিকে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাজহারুল ইসলাম বলেন, ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত— ৩’শ পরিবারের মাঝে ত্রান সহায়তা প্রদান করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সকলকে এই সহায়তা পৌছে দেয়া হবে। এছাড়া রবিবার থেকে খাবার স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হবে।
অন্যদিকে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারুফ আফজাল রাজন জানান, পানিবন্দি মানুষের সহায়তায় কাজ করছে প্রশাসন। আলাতুলি ও নারায়ণপুর ইউনিয়নের পানিবন্দি ১৮'শ পরিবারের প্রত্যেকে ১০ কেজি করে ১৮ মে. টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।
পানিবন্দি মানুষরা জানিয়েছে, বিশুদ্ধ খাবার পানি সংকট দেখা দিয়েছে। পানির উৎসগুলো ডুবে যাওয়ায় নিরাপদ পানি সংগ্রহ করতে তাদের দূরের এলাকায় যেতে হচ্ছে। এতে নারী, শিশু ও বয়স্কদের ভোগান্তি বেড়েছে। এছাড়া গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। শুষ্ক স্থান না থাকায় রান্না করা খাবার খেতে পারছেন না তারা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম আহসান হাবীব বলেন, ভারতের উজানের ঢলে পদ্মা নদীর পানি বেড়েছে। তবে পানির প্রবাহ রবিবার পর্যন্ত স্থিতিশীল থাকবে এবং সোমবার থেকে পানি দ্রুত কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।