ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলীয় সাদা প্রদেশের আকাশে সৌদি আরবের একটি ইউরো টাইফুন যুদ্ধবিমানে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আঘাত হানার দাবি করেছে হুথি বিদ্রোহীরা।
বুধবার গভীর রাতে হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে জানান, তাদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রটি সরাসরি বিমানটিতে আঘাত হেনেছে এবং এর ফলে বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।
সারি আরও দাবি করেন, যুদ্ধবিমানটি সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলীয় তায়েফের একটি বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করেছিল। তবে বিমানটিতে হামলার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে, বুধবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলার দাবি করে হুথিরা।
সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটেছে। আনাদোলু এজেন্সির সরকারি বিবৃতিভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, ৫ থেকে ১১ অক্টোবরের মধ্যে দেশটির পাঁচটি বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ১০টি হামলা চালানো হয়। এসব হামলায় ২০ জন নিহত এবং শত শত মানুষ আহত হন। পাশাপাশি ব্যাহত হয় বিমান চলাচল।
তবে এসব হামলার সব বিবরণ এবং ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।
২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক জোটের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে সৌদি আরব। অন্যদিকে, ২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও দেশটির বেশ কয়েকটি প্রদেশ নিয়ন্ত্রণ করছে হুথি গোষ্ঠী।
২০২২ সালে হওয়া একটি যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর জুলাই থেকে সংঘাতের সর্বশেষ উত্তেজনা শুরু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সৌদি যুদ্ধবিমানে হামলার সর্বশেষ দাবি এবং দেশটির বিমানবন্দরগুলোতে ধারাবাহিক হামলার ঘটনা ইয়েমেন সংঘাতকে ঘিরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। তবে যুদ্ধবিমানে হামলার দাবি সৌদি কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত না করায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।