ইসরায়েলে অঘোষিত সফরে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার মধ্যে এই বৈঠকের খবর এসেছে। তবে ওয়াশিংটন বা ইসরায়েল কেউই বৈঠকটি নিয়ে বিবৃতি দেয়নি।
আগামী সপ্তাহে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে নেতানিয়াহুকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন দেওয়ার পর বৈঠকটি হয়। জনমত জরিপে নেতানিয়াহুর ধর্মীয়-জাতীয়তাবাদী জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে পারে বলে আভাস মিলছে। বিরোধীদেরও সরকার গঠনে সমস্যায় পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ব্রিটিশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা কর্মসূচির পরিচালক সানাম ভাকিলের মতে, কয়েক মাসের টানাপোড়েনের পর ট্রাম্পের সমর্থন রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষায় নিজেকে অপরিহার্য হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ পাবেন নেতানিয়াহু।
তবে আল-জাজিরাকে গবেষক সানাম ভাকিল বলেছেন, নির্বাচনে এর প্রভাব অতিরঞ্জিত করা উচিত নয়। নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব ও ইরান যুদ্ধের ফল নিয়ে ইসরায়েলিরা বিভক্ত। এই সমর্থন তার বিদ্যমান সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধ করতে পারে, কিন্তু অতীত ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন মেটাবে না।
কিংস কলেজ লন্ডনের নিরাপত্তা অধ্যয়ন বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগও মনে করেন, ট্রাম্পের সমর্থন ঘনিষ্ঠ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এক-দুটি আসনে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে নেতানিয়াহুর প্রয়োজনীয় জোটগত সংখ্যাগরিষ্ঠতা তৈরি করে দিতে পারবে না।
বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ, ট্রাম্পের সমর্থনে ইরান যুদ্ধ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। কয়েকটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নভেম্বরের শুরুতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই হামলা পুনরায় শুরুর প্রস্তুতি নিতে পারে পেন্টাগন।
গবেষক সানাম ভাকিলের মতে, দুই দেশের নতুন রাজনৈতিক বোঝাপড়া ভবিষ্যতে যৌথ সামরিক অভিযানের পথ খুলতে পারে। তবে নেতানিয়াহুকে সমর্থন দেওয়ার অর্থ নতুন অভিযানে দুই নেতা একমত হয়েছেন—এমন নয়।
এদিকে, সোমবার টু-ওয়ে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহুকে সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে টেনে নেওয়ার জন্য আগে নেতানিয়াহুকে দায়ী করা ভ্যান্স বলেছেন, ইসরায়েলের নির্বাচনে তিনি জড়াচ্ছেন না; তার মনোযোগ মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে।