blog-img
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে: কাতার
6 hours ago
2.4 K Views
0 comments
উত্তেজনা নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধি দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত পরোক্ষ বৈঠকগুলো একটি সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারক ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’র মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে দেওয়া পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি পোস্টে উল্লেখ করেন, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতার ও পাকিস্তান আজ দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচকদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক সম্পন্ন করেছে। লেক লুসার্ন সম্মেলনের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’-এর বিষয়গুলোতে ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। তিনি আরও জানান, উভয় পক্ষই আগামী সময়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে এবং ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনেইয়ের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের পরপরই যত দ্রুত সম্ভব পরবর্তী বৈঠকের সময় নির্ধারণ করা হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় খামেনেই নিহত হন। ইরানি গণমাধ্যম এখন তাদের প্রচারণার মূল মনোযোগ শেষকৃত্যের প্রস্তুতি। আগামী সপ্তাহের শোকমিছিল চলাকালীন দেশের কার্যক্রমে যেসব পরিবর্তন আনা হবে এবং এই বিশাল আয়োজনের প্রতীকী তাৎপর্যের ওপর নিবদ্ধ করেছে। তেহরানের প্রধান আলোচক ও ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবফ সকল ইরানি নাগরিককে নেতার শেষকৃত্যে উপস্থিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি ইরানি সেনাবাহিনী শোকমিছিল চলাকালীন কোনো ধরনের ‘ভুল পদক্ষেপ’ বা ভুল হিসাব-নিকাশ না করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সতর্ক করে দিয়েছে। মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও পাকিস্তান এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনা ছিল ইতিবাচক এবং যত দ্রুত সম্ভব এই আলোচনা পুনরায় শুরু হবে। তবে দোহায় ঠিক কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, তা এখনো অস্পষ্ট। ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চুক্তির অংশ হিসেবে তাদের অবরুদ্ধ সম্পদ বা অর্থ ছাড়ের বিষয়ে আলোচনার জন্যই তারা সেখানে গিয়েছিলেন। অন্যদিকে, 'অ্যাক্সিওস'-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ইরানকে এমন পদক্ষেপ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করছিলেন যার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর মাশুল বা ফি আরোপের পরিকল্পনা করা হচ্ছিল। তবে আপাতত ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়বে, কারণ তারা খামেনেইকে সমাহিত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অত্যন্ত সতর্কতার সাথে আয়োজিত এই শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শাসকগোষ্ঠী মূলত সেই পক্ষগুলোর কাছেই নিজেদের টিকে থাকার সক্ষমতা ও শক্তি প্রদর্শন করতে চাইছে, যারা খামেনেইর মৃত্যুর জন্য দায়ী।

Comments 0

Your Comment