blog-img
বক্তব্যের শুরুতে সালাম দেওয়ায় অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের নারী আইপিএস কর্মকর্তাকে বদলি
57 minutes ago
4.6 K Views
0 comments

ইসলামি অভিবাদন (সালাম, ইনশাআল্লাহ) ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশের পর হিন্দুত্ববাদী একটি সংগঠনের অভিযোগের মুখে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের এক নারী আইপিএস কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। বুশরা বানু নামের ওই কর্মকর্তা খড়গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তাঁকে ওই পদ থেকে সরিয়ে রাজ্য সশস্ত্র পুলিশের ডেপুটি কমান্ড্যান্ট করা হয়েছে।


দ্য ওয়্যারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রবিবার এক ভিডিও বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশ করেন বুশরা। সেখানে তিনি ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (ইউপিএসসি) পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক কোচিং একাডেমি থেকে পাওয়া সহায়তার কথা তুলে ধরেন। শিক্ষার্থীদেরও পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য ওই একাডেমির সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।


ভিডিওর শুরুতে ‘আসসালামু আলাইকুম’, বক্তব্যে ‘ইনশা আল্লাহ’ এবং শেষে ‘জাজাকাল্লাহ’ ব্যবহার করেন বুশরা। এ নিয়ে আপত্তি জানায় হিন্দু লিগ্যাল ফান্ড নামে একটি সংগঠন। সংগঠনটি নিজেকে হিন্দু নেটওয়ার্ক ফাউন্ডেশনের একটি শাখা হিসেবে পরিচয় দেয়।


পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্রসচিবের কাছে দেওয়া অভিযোগে সংগঠনটি দাবি করে, একজন কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে প্রকাশ্য যোগাযোগে তাঁকে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা উচিত ছিল। অভিযোগে বলা হয়, বুশরা ‘বন্দে মাতরম’ বা ‘জয় হিন্দ’ ব্যবহার না করে ইসলামি অভিবাদন ও শব্দ ব্যবহার করেছেন।


এরপরই তাঁর বদলির বিষয়টি সামনে আসে। তবে বুশরাকে বদলির সরকারি কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে কি না, তা দ্য ওয়্যারের প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।


বুশরা বানো আগে সৌদি আরবে শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে দেশে ফিরে ইউপিএসসি পরীক্ষায় দুইবার সফল হন। তাঁর ইসলামি অভিবাদন ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার পাশাপাশি এর বিরুদ্ধেও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।


সাবেক আমলা আশিস জোশী বলেন, বুশরার ব্যবহৃত শব্দ তাঁর ব্যক্তিগত বিশ্বাসের প্রকাশ এবং তা তাঁর দেশসেবার সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। ভারতের মতো বৈচিত্র্যময় দেশে এমন সহাবস্থান গর্বের বিষয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


কংগ্রেসের সংসদ সদস্য ইমরান প্রতাপগড়ি ঘটনাটিতে আইপিএস অ্যাসোসিয়েশনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্রও বুশরার বদলি নিয়ে সমালোচনা করেছেন।

Comments 0

Your Comment