পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে নির্বাচন, ১২ আসন ঘিরে ঝরছে রক্ত
11 hours ago
3.1 K
Views
0
like
share
পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে থাকা আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরে অব্যাহত বিক্ষোভ, সহিংসতা এবং ইন্টারনেট বন্ধের মধ্যেই সাধারণ নির্বাচন শুরু হয়েছে। অঞ্চলটির ১২টি সংরক্ষিত শরণার্থী আসন বাতিলের দাবিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চলা আন্দোলনই নির্বাচনের আগে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকটে পরিণত হয়েছে।
আজাদ কাশ্মীরের ৪৫টি সাধারণ আসনের মধ্যে ১২টি আসন পাকিস্তানে বসবাসকারী কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত। তবে নাগরিক অধিকারভিত্তিক সংগঠন জম্মু কাশ্মীর যৌথ আমামি অ্যাকশন কমিটির দাবি, লাহোর, রাওয়ালপিন্ডি, শিয়ালকোটসহ পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী শরণার্থীরা মুজাফফরাবাদের স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করতে পারেন না। সংগঠনটির অভিযোগ, এসব আসনের মাধ্যমে ইসলামাবাদ আজাদ কাশ্মীরের রাজনৈতিক ক্ষমতার ওপর প্রভাব বজায় রাখছে।
এই দাবিতে জুন মাস থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন সহিংস রূপ নেয়। পরে স্থানীয় সরকার সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এবং এর বেশ কয়েকজন নেতাকে গ্রেপ্তার করে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে নির্বাচন কমিশন একদিনে ভোট না নিয়ে তিন ধাপে ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে আন্দোলনকারীরা নির্বাচন বয়কটের আহ্বান জানিয়েছেন।
বিষয়টি আদালতে গেলে আজাদ কাশ্মীরের সুপ্রিম কোর্ট রায়ে জানায়, সংবিধান সংশোধন ছাড়া নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ১২টি সংরক্ষিত শরণার্থী আসন বাতিল করা সম্ভব নয়।
পাকিস্তানের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই আসনগুলোর মাধ্যমে ইসলামাবাদ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পুরো জম্মু ও কাশ্মীরের ওপর নিজেদের দাবির রাজনৈতিক ভিত্তি ধরে রাখতে চায়।
এদিকে অঞ্চলজুড়ে ব্যাংক ও ইন্টারনেট সেবা বন্ধ এবং পুঞ্চ বিভাগ অবরুদ্ধ থাকায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। আন্দোলনকারী নেতারা পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগেরও চেষ্টা করেছেন।
তাদের অভিযোগ, কাশ্মীরের প্রকৃত স্বায়ত্তশাসন ও গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করে রাজনৈতিক ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ কার্যত রাওয়ালপিন্ডির সামরিক সদর দপ্তরের হাতেই রয়েছে। স্থানীয় বেসামরিক সরকারের হাতে এই সংকট সমাধানের কার্যকর ক্ষমতা নেই বলেও দাবি তাদের।