blog-img
ধ্বংসস্তূপের নিচে থেকে ৩৬ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার নারী
1 hour ago
4.9 K Views
0 comments
কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপের নিচে ৩৬ ঘণ্টা আটকে থাকার পর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে। দীর্ঘ ১০ ঘণ্টার উদ্ধার অভিযান শেষে ড্যানিয়েলা লার্গো নামের ওই নারীকে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর পেরেইরার একটি ধসে পড়া ভবনের নিচ থেকে উদ্ধার করেন দমকলকর্মীরা। উদ্ধারকারীরা জানান, চারটি বিশাল কংক্রিটের স্ল্যাবের নিচে আটকে ছিলেন লার্গো। তাকে উদ্ধারে ঘটনাস্থলের নিচ দিয়ে একটি সুড়ঙ্গ খনন করতে হয়। অবশেষে ওই সুড়ঙ্গের মাধ্যমে তার কাছে পৌঁছে তাকে নিরাপদে বের করে আনতে সক্ষম হন উদ্ধারকর্মীরা। সরকারি হিসাবে, শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অন্তত ১৮৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা আড়াই শতাধিক দাবি করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে আরও কয়েক শ’ মানুষ। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে কান্নার শব্দ লার্গোর মা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, স্থানীয় এক বাসিন্দা প্রথমে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তার মেয়ের সাহায্যের জন্য চিৎকার শুনতে পান। পরে জরুরি উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে একটি ছোট ক্যামেরার সাহায্যে লার্গোর অবস্থান শনাক্ত করেন। তবে তাকে উদ্ধারের পথ সহজ ছিল না। তার ওপর পড়ে থাকা চারটি ভারী কংক্রিটের স্ল্যাবের কারণে সরাসরি সেখানে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছিল না। পেরেইরার স্থানীয় দমকল বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে রাজধানী বোগোতা থেকে আসা উদ্ধারকর্মী এবং জাতীয় পুলিশের দুর্যোগ মোকাবিলা দলের সদস্যরা উদ্ধার অভিযানে যোগ দেন। লার্গোর কাছে পৌঁছাতে তারা দুটি সুড়ঙ্গ খনন করেন। এর একটি ওপর থেকে খনন করে তার কাছে অক্সিজেন সরবরাহ করা হয়। কিন্তু তাকে ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে আনার জন্য শেষ পর্যন্ত নিচ থেকে দ্বিতীয় একটি সুড়ঙ্গ খনন করতে হয়। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর সেই পথ দিয়েই তাকে নিরাপদে বের করে আনেন উদ্ধারকর্মীরা। লার্গোর উদ্ধারের খবরকে স্বস্তি ও আশার বার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ঘটনাটিকে ‘আশায় ভরিয়ে দেওয়া খবর’ হিসেবে বর্ণনা করেন। লার্গোর মা বলেন, “বাড়িতে লার্গোর ১২ বছর বয়সী ছেলে তার জন্য অপেক্ষা করছে।” পেরেইরায় ব্যাপক ধ্বংস কলম্বিয়ার কফি উৎপাদনকারী অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর পেরেইরায় ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অ্যাসোসিয়েশন অব কলম্বিয়ান ক্যাপিটাল সিটিজের তথ্যানুযায়ী, শহরটিতে অন্তত ৭৯ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। নিহতের সংখ্যার দিক থেকে এটি দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষতিগ্রস্ত শহর। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে কালি শহরে- সেখানে অন্তত ৯৫ জন মারা গেছে। পেরেইরায় অন্তত ৯২টি ভবন ধসে পড়েছে। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সেখানে ১৫ জন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে রয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া আরও ৩৭ জন নিখোঁজ রয়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিতদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। ড্যানিয়েলা লার্গোর জীবিত উদ্ধারের পর উদ্ধারকর্মীদের মধ্যে আরও মানুষকে জীবিত উদ্ধারের আশা জোরালো হয়েছে। কালিতে আটকে শত শত মানুষ দেশটির তৃতীয় সর্বাধিক জনবহুল শহর কালি ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত শহরটিতে ২০০ জনের বেশি মানুষ বিভিন্ন স্থানে আটকে ছিলেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কালির মেয়র রাতে কারফিউ জারি করেছেন। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সেনা সদস্যদের টহল দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। মেয়র বলেন, “উদ্ধারকাজ যেন নিরাপদে পরিচালনা করা যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।” একই সঙ্গে তিনি ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের জীবিত উদ্ধারের আশা এখনও রয়েছে বলে জানান। তিনি বলেন, আটকে থাকা প্রত্যেক মানুষকে উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হবে। কালিতে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৮৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। দুই মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হয় কম্পন স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টা ৩৪ মিনিট) ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল চোকো প্রদেশের সান হোসে দেল পালমার গ্রামের কাছাকাছি এলাকায়। তবে এর কম্পন কলম্বিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের কেন্দ্রের কাছাকাছি স্থাপিত সিসমোমিটারগুলোতে ৯০ সেকেন্ড থেকে দুই মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে। ভূমিকম্পের পর রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১০০টির বেশি পরাঘাত বা আফটারশক অনুভূত হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো আরও ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং উদ্ধার অভিযানও জটিল হয়ে উঠেছে।

Comments 0

Your Comment